বগুড়া সংবাদ ডট কম(শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) বগুড়া শাজাহানপুরের বীরগ্রামে ফরহাদ হত্যাকাান্ডের ক্লু উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর সাথে অপর বন্ধুর পরকিয়ার ভাগ দাবী করায় ফরহাদকে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় মহিলা সহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, বীরগ্রাম দক্ষিনপাড়া মৃত তোতা মিয়ার পুত্র আজম (২২), একই গ্রামের রইচ উদ্দিনের পুত্র রবিউল ইসলাম ওরফে খোকন (১৯) এবং প্রবাসী ওয়ারেসুল মোস্তফার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা (২২)। বুধবার বগুড়া সদরের সবুজবাগ এলাকা এবং বীরগ্রাম এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তীমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বীকারোক্তীতে তারা জানায়, আজম, রবিউল, প্রবাসী ওয়ারেসুল ও হত্যার শিকার ফরহাদ একেঅপরের বন্ধু। এরা সবাই মাদকাসক্ত। প্রবাসী ওয়ারেসুল মোস্তফা ১ বছর পূর্বে মালয়েশিয়া য়ায। এই সুযোগে ওয়ারেসুলের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানার সাথে অপর বন্ধু একই গ্রামের আজমের পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি ফরহাদ জানতে পেরে জাকিয়াকে পরকিয়ার প্রস্তাব করে এবং বলে শুধু আজমের সাথে নয় তার সাথেও পরকিয়া করতে হবে। না হলে ওয়ারেসুলকে আজমের সাথে সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর জাকিয়া বিষয়টি প্রেমিক আজমকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আজম। একপর্যায়ে আজম তার সহযোগী একই গ্রামের রবিউল ইসলামের সহযোগীতায় ১৮ মার্চ রাতে গাঁজা খাওয়ার কথা বলে কৌশলে ফরহাদকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ রাতে উপজেলার বীরগ্রাম স্ট্যান্ডের দক্ষিন পাশে নির্মাণাধিন পল্লী বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টের পশ্চিম পাশে ধান ক্ষেতের আইলের উপর বীরগ্রাম মোন্নাপাড়ার মৃত আবুল হোসেন মোন্নার পুত্র ফরহাদ হোসেন (২৫) কে গলা কেটে হত্যা করে। এঘটনায় শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়েরের পর হত্যার ১০ দিনের মাথায় হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ক্লু উদ্ধার করতে সক্ষম হয় শাজাহানপুর থানা পুলিশ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন